মিলিয়নফিশ বা রেইনবো ফিশ হিসেবে পরিচিত গাপ্পি (Poecilia reticulata) বিশ্বের অন্যতম বহুল বিস্তৃত উষ্ণমণ্ডলীয় মাছ এবং মিঠাপানির অ্যাকোয়ারিয়ামে পালিত মাছের প্রজাতি। এটা Poeciliidae গণভুক্ত এবং একই গণভুক্ত অন্যান্য আমেরিকান মাছেদের মত এরাও সরাসরি পোনার জন্ম দেয়।[১] দক্ষিণ আমেরিকার উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে প্রাকৃতিক আবাস হলেও গাপ্পি মাছ বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে আর এখন বিশ্বের প্রায় সকল এলাকাতেই পাওয়া যায়। এরা অতিমাত্রায় অভিযোজ্য এবং বিভিন্ন পরিবেশে মানিয়ে নিতে পারে। পুরুষ গাপ্পিরা স্ত্রী গাপ্পিদের থেকে আকারে ছোট হয় এবং এদের দেহে রংবাহারি আলঙ্কারিক পুচ্ছ পাখনা ও পৃষ্ঠ পাখনা থাকে। স্ত্রী মাছেরা তুলনামূলক অনুজ্জ্বল রঙের হয়ে থাকে। বন্য পরিবেশে এরা মূলত তলদেশীয় শৈবাল এবং জলচর পোকার লার্ভা খেয়ে থাকে। পরিবেশবিজ্ঞান, বিবর্তন এবং আচরণবিজ্ঞানে গাপ্পি মাছ আদর্শ প্রাণী হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
বিদেশী বাহারি মাছ হিসেবে বাংলাদেশে অতি পরিচিত এক মাছের নাম গাপ্পি। দক্ষিণ আমেরিকার এই মাছকে
এ্যাকুয়ারিয়ামে খুব সহজেই যেমন লালন-পালন করা যায় তেমনই প্রজননও করা যায়। গাপ্পি মাছ ভিভিপেরাস ধরণের অর্থাৎ সরাসরি বাচ্চা প্রসব করে এবং এদের নিষেক দেহাভ্যন্তরে ঘটে থাকে। এ্যাকুয়ারিয়েমের বাহারের জন্য এ মাছটি ভালো হলেও অনেকেই একে দেশী মাছের প্রজাতির জন্য ক্ষতিকর বলে মনে করেন। এদের খাদ্য তালিকার শুরুতে মশার লার্ভা থাকায় একে মশার বংশ বিস্তার রোধে ব্যবহার করা যায় কিনা তা নিয়ে বিস্তর গবেষণা হয়েছে এবং হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও হবে তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। তবে মশার লার্ভার পাশাপাশি এরা অন্যান্য মাছ ও উপকারী জলজ প্রাণীর লার্ভা খেয়ে থাকে। এমন কি নিজের সদ্য প্রসবকৃত বাচ্চাও এর খাদ্য তালিকা থেকে মুক্ত নয়। একারণেই সম্ভবত বিজ্ঞানীদের মাঝে একে নিয়ে এত আশংকা। তবে যাই হোক এ্যাকুয়ারিয়ামে এদের লালন-পালন করে যেমন নির্মল আনন্দ পাওয়া যায় তেমনই বাণিজ্যিকভাবে প্রজননের মাধ্যমে অর্থও উপার্জন করা যায়।
No comments:
Post a Comment